ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ , ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর তীব্র সংকট, ব্যাহত পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-০৪ ২০:৫৫:০৭
ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর তীব্র সংকট, ব্যাহত পাঠদান ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর তীব্র সংকট, ব্যাহত পাঠদান
মোঃ অপু খান চৌধুরী।।


১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো সরকারি নিয়োগ নেই। অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন, কিন্তু নতুন পদায়ন না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলছি কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’-এর কথা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এক চমৎকার ও নান্দনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চারপাশে আধুনিক ভবন, সুসংগঠিত সীমানা। উপজেলা সদরের সিএনজি স্টেশন থেকে উওরে মেজর গনি রোডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির প্রাঙ্গণ যে কারও নজর কাড়বে।


তবে দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামোর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চরম জনবল সংকট। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের তিনটি পদ খালি। পাঠদানের বাইরেও দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত পদগুলোতেও হাহাকার। নৈশপ্রহরী, দপ্তরি ও অফিস সহায়কের তিনটি পদের তিনটিতেই কোনো লোক নেই। বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম নিজের ক্ষোভ ও বাস্তবতার কথা জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রধান ফটক খোলার মতো লোক পর্যন্ত নেই। আমরা শিক্ষকরা যার যার মতো এসে ক্লাসে ঢুকে যাই। শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় একজন শিক্ষককেই অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ সামলাতে হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদগুলো শূন্য থাকায় দৈনন্দিন কাজে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান যে ব্যাহত হচ্ছে, তা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাম্মদ শাহিনা আক্তার। তিনি বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটের কারণে আমাদের ক্লাস গ্রহণ ও নিয়মিত লেখাপড়ায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহোদয়কে আমরা বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়েছি। আশা করছি, এই সংকট দ্রুত কেটে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগত মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি এই উপজেলায় যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়টির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। ইউএনও বলেন, আমি শিক্ষকদের সঙ্গে বসে রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করব।


পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত শিক্ষক ও কর্মচারী পদায়নের জন্য আবেদন প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য, উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ